প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

ফেরা
উপন্যাস ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ফেরা

তসলিমা নাসরিন

৭৫ ভিউ
২৪ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
প্লেনের সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে চারদিক তাকায় কল্যাণী। পেছন থেকে দীপন বলে—‘কই তুমি না নেমেই জল খাবে?’

হ্যাঁ, কল্যাণী জল খাবে, জল না খেলে তার হৃদয় জুড়োবে না। দেশের জলের যে স্বাদ, সে স্বাদ কি আর অন্য জলে মেলে? তিরিশ বছর কলকাতায় অমন স্বাদের জল সে একঢোকও পান করেনি।

আঠারো বছর বয়স ছিল কল্যাণীর। আনন্দমোহনে পড়ত। এই কলেজে তার বাবা পড়েছে, দাদা পড়েছে, কলেজটির আলাদা একটি দাপট ছিল বটে। কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, জামালপুর, গৌরীপুর থেকে ছেলেরা পড়তে আসত, টিনের ফুলতোলা পেটরা নিয়ে গ্রাম থেকে আসা ছেলেগুলো যখন শহরের রাস্তায় হাঁটত, সাইকেল রিক্সার টুংটুং শব্দ ঠিক বুঝে উঠতে পারত না, এলোপাতাড়ি ছুটত—আর তাল সামলাতে না পেরে আরোহীসহ সাইকেলও হুমড়ি খেয়ে পড়ত ওদের গায়ের ওপর, দেখে কল্যাণীর দাদা জ্যোতিপ্রকাশ ওদের নাম দিয়েছিল ‘বলদ’। ওরা প্রথম দিকে চুলে সর্ষের তেল মেখে ক্লাসে আসত, সার্টের পকেটে ভাঁজ করা ‘ভুলো না আমায়’ লেখা রুমাল রাখত, আর ফাঁক পেলেই সেই রুমাল দিয়ে পাউডার মাখা ঘাড়ের ঘাম মুছত, পেছনের বেঞ্চে বসে হাঁ করে ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকত, স্যারদের কথা অর্ধেক বুঝত, অর্ধেক বুঝত না, মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গলা কাঁপত, অফ পিরিয়ডে ছাত্ররা যখন করিডরে বা মাঠে বসে আড্ডা পেটাত, ওরা ছোটবেলার ‘আমাকে খেলায় নেবে?’ মুখ করে দূরে দাঁড়িয়ে থাকত।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!