জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের
প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য
করবে। ধন্যবাদ।
মাঝেমাঝে কালঘুমে পায় রাশেদকে;–সে ঘুমিয়ে পড়ে যেনো মরে গেছে বা তার জন্মই হয় নি, যেনো মানুষ, সমাজ, সংঘ, বা পৃথিবীর কেউ সে নয়, যেনো সে ট্রাউজার বা পাজামা বা লুঙ্গিপরা বা নগ্ন মানুষদের, বা দেয়ালঘেরা দালান বা মানচিত্রিত রাষ্ট্রের কেউ ছিল না কখনো, ভবিষ্যতেও এদের কেউ থাকবে না; আর তখন তার চারপাশে, ঘুমভাঙা মানুষের জগতে, ঘটে যায় বড়ো কোনো ঘটনা, যাকে অনেক সময় ইতিহাস বলা হয়। তার ছেলেবেলায় প্রথম ঘটে এমন এক ঘটনা, যা আজো সে মনে করতে পারে, এবং কখনো ভুলবে না; হয়তো তারও আগে, যখন সে মায়ের বুকে তৃতীয় স্তনের মতোই লেগে থাকতো, তখনো ঘটেছে এমন ঘটনা, তবে তা সে আর মনে করতে পারে না। রাশেদ, তখন ছোটো ও একমুঠো, মসজিদের পাশের নানা রঙের কবরঘেরা ভীতিকরভাবে আকর্ষণীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে যেতে শুরু করেছে; তখন ঘটে আজকের মতোই এক ঘটনা, সেদিনও সে ঘুমিয়ে ছিলো যেনো তার জন্ম হয় নি, কখনো জন্ম হবে না। সে-রাতে আগুন লেগেছিলো পাশের বাড়িতে, চোতবোশেখে। চাষীদের বাড়িতে কুপি উল্টে বা চুলো থেকে বেড়ার খড় বেয়ে শিখা উঠে প্রায়ই যেমন আগুন লাগে। ওই আগুনে রাত দিনের মতো কড়কড়ে হয়ে উঠেছিলো, পুবপশ্চিম পাড়া থেকে মানুষ ছুটে এসেছিলো বালতি হাতে, যাদের অনেকে পানি ছিটানোর থেকে চিৎকারই করেছিলো বেশি, কেউ কেউ আগুনের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো যেনো অন্ধ, সে-লকলকে অগ্নিকাণ্ডের সামান্য শব্দও তার কানে ঢোকে নি।
এই বইটি কি আপনার
ভালো লেগেছে?
আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে
আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।