শওকত আলী

শওকত আলী

শওকত আলী (১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ – ২৫ জানুয়ারি ২০১৮) একজন বাঙালি কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষক। তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গল্প ও উপন্যাস লিখে খ্যাতি অর্জন করেন।ভিন্নধর্মী লেখার জন্য তাঁর পাঠক সমাজও ভিন্নরকম ছিল। ১৯৯০ সালে সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। শ্রীরামপুর মিশনারী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির মাধ্যমে শওকত আলীর বাল্য শিক্ষা শুরু হয়। কিন্তু ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে কলকাতাতে আক্রমণ শুরু হলে তারা স্বপরিবারে রায়গঞ্জে ফিরে আসেন। রায়গঞ্জে তার মা সেখানকার বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন এবং বাবা ডাক্তারি পেশা শুরু করেন। রায়গঞ্জ করনেশন ইংলিশ হাইস্কুলে শওকত আলীকে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করে দেওয়া হয়। ১৯৫১ সালে তিনি করনেশন স্কুল থেকেই প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫১ সালে তিনি দিনাজপুরের সুরন্দ্রনাথ কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন। তার মায়ের মৃত্যুর পর ১৯৫২ সালে শওকত আলী তার ভাই-বোনদের নিয়ে পূর্ব বাংলার দিনাজপুরে স্থানান্তরিত হন। পরবর্তীতে তার বাবাও ১৯৫৩ সালে দিনাজপুরে চলে যান। দেরীতে ভর্তি হতে আসার কারণে শওকত আলী আই.এস.সি তে ভর্তি হতে না পেরে ১৯৫১ সালে সুরন্দ্রনাথ কলেজে আই.এ. ভর্তি হওয়ার পর ১৯৫৩ সালে দ্বিতীয় বিভাগে আই.এ. পাস করেন। আই.এ পাস করার পর এই কলেজেই বি.এ. তে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে কমিউনিস্ট দলের সাথে সংযুক্ত হন এবং বিভিন্ন মিছিল, আন্দোলনে জড়িয়ে পরেন। ১৯৫৪ সালে তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয় এবং ডিসেম্বরে তিনি ছাড়া পান। ১৯৫৫ সালে বি.এ পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উর্ত্তীণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এম.এ-তে ভর্তি হন ও ১৯৫৮ সালে এম.এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬১ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫৫ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করে। একই সময়ে দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার নিউজ ডেস্কে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে দিনাজপুরের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে এবং ১৯৫৯ সালে ঠাকুরগাঁও কলেজে বাংলার প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ১৯৮৮ সালে জেলা গেজেটিয়ারের ঢাকার হেড অফিসে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করে পরিচালক পদে উন্নীত হন। ১৯৮৯ সালে সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৯৩ সালে অবসরগ্রহণ করেন। নবম শ্রেণীতে পড়াবস্থায় লেখালেখি শুরু করলেও ভারত ভাগের পর কলকাতার বামপন্থীদের 'নতুন সাহিত্য' নামে একটি পত্রিকায় প্রথম তার গল্প প্রকাশিত হয়। এরপর দৈনিক মিল্লাত, মাসিক সমকাল, ইত্তেফাকে তার অনেক গল্প, কবিতা এবং শিশুদের জন্য লেখা প্রকাশিত হয়। তার দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিন যেগুলোকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়, যার জন্য তিনি ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।

সংগৃহিত বই: ৪ টি

পিঙ্গল আকাশ

শওকত আলী

উপন্যাস

দুষ্কালের দিবানিশি

শওকত আলী

উপন্যাস

প্রদোষে প্রাকৃতজন

শওকত আলী

উপন্যাস

দক্ষিণায়নের দিন

শওকত আলী

উপন্যাস