প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

রতিবিলাস
গল্প ০২ ডিসেম্বর ২০২৩

রতিবিলাস

সেলিনা হোসেন

৭৮ ভিউ
১৬ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
ছেলেটা বড় কেমন যেন। বিধাতা বুঝি ওকে কেবল সুড়সুড়িময় তরল পদার্থ দিয়েই তৈরি করেছে। মিসেস খান আত্মতৃপ্তি পেলেও মাঝে মাঝে তার অনুভূতির দেয়ালে যে অস্বস্তির হাতুড়ি পড়তে থাকে না, তা নয়। নীলাও অবশ্য মাঝে মাঝে কেমন বিবর্ণ নীল হয়ে যায়-ওর চোখেমুখে একটা আতঙ্ক, একটা হতাশা, দানা বাঁধতে আরম্ভ করে । তখন মিসেস খানের দেহে পুলক জাগে। আঁটসাট বাঁধুনির চল্লিশ বছরের শরীর যৌনবটা দাপাদাপি শুরু করে।

মিসেস খান ভাবতে শুরু করেন। সেই কবে আঠারাে বছর আগে জীবনটাকে বেঁধে ফেলেছিলেন সব কামনাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে। যেদিন হাসিব খান মারা গেল তখন নীলা এক বছরের। অবশ্য ইচ্ছা করলে তিনি আবার নতুন করে জীবনটাকে সাজাতে পারতেন-সে সুযােগও পেয়েছিলেন। কিন্তু মনের কাছ থেকে কোনাে সাড়া পাননি। মনে হয়েছিলে হাসিব খানের স্মৃতিকে বুকে পুষে আরেকজনের ঘর করা তার পক্ষে অসম্ভব। এ কেমন করে সম্ভব যে, ভালােবাসি একজনকে কিন্তু ভাত খাব আর একজনের? নিজের মনের ইচ্ছাই জয়ী হলাে। যে হাসিব খানকে তিনি ভালােবেসে বিয়ে করেছিলেন-তাকে তিনি দৈনিক কামনার উর্ধ্বে ভালােবাসেন বলে অহরহ প্রচার করে বড়াতেন-যে হাসিব খান তার সমস্ত মন জুড়ে, তাকে তিনি কখনাে সরাতে পারলেন না। হাসিব খানের মৃত আত্মা বিজয়ী হলাে-হেরে গেলে মিসেস খানের সমস্ত দৈহিক অনুভূতির উদগ্র প্রকাশ। সবকিছুকে তিনি চোখ রাঙিয়ে শাসন করলেন-জোর করে দিলেন ঘুম পাড়িয়ে।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!