জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ
বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের
প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য
করবে। ধন্যবাদ।
আমার ইচ্ছে করে, সকাল-দুপুর-রাত একা হেঁটে বেড়াই, নদীর ধারে, গ্রামের মাঠে আলপথে, শহরের ফুটপাথে, পার্কে স্রেফ একা হাঁটি। আমার বড় ইচ্ছে করে সীতাকুণ্ড পাহাড়ে যেতে, ইচ্ছে করে হঠাৎ একদিন শালবন বিহার গিয়ে পুরো বিকেল কাটাই। ইচ্ছে করে সেন্ট মার্টিনের সমুদ্রে নেমে গাঙচিলের খেলা দেখি, ইচ্ছে করে খুব মন খারাপ করা দুপুরে ঘাসের ওপর শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখি। ইচ্ছে করে সংসদ-ভবনের সিঁড়িতে একা বসে থাকি, বিকেলে রমনায় গাছে হেলান দিয়ে অলস দাঁড়াই, ক্রিসেন্ট লেকের জলে সারা সন্ধে পা ডুবিয়ে বসে থাকি, হঠাৎ আবার শীতলক্ষায় নৌকো নিয়ে ঘুরি।
আমি জানি, খুব ভাল করেই জানি, আমার ইচ্ছেগুলো ঘটাতে গেলে আমাকে লোকের ঢিল, থুতু, গা-ধাক্কা খেতে হবে। আমাকে অপদস্থ হতে হবে, ধর্ষিতা হতে হবে। আমাকে কেউ ‘পাগল’ বলবে, কেউ ‘নষ্ট’ বলবে, কিন্তু সকলে নিশ্চয় এ-কথা স্বীকার করবেন, কোনও পুরুষের বেলায় এ-ধরনের ইচ্ছেকে পূর্ণতা দিতে গেলে অশ্লীল বাক্যবাণে তাকে আহত হতে হয় না, কোনও পুরুষের বেলায় অপহরণ, অপঘাত, ধর্ষণ, হত্যা ইত্যাদি ঘটনাগুলো ঘটে না। কেবল নারীর বেলায় ঘটে। কারণ নারী কেন সঙ্গে একজন পুরুষ ছাড়া হেঁটে বেড়াবে? পুরুষের না হয় বিচিত্র স্বভাব থাকে, পুরুষকে তা মানায় বটে! নারী কেন ফুটপাতে হাঁটবে, গাছের ছায়ায় দাঁড়াবে, সিঁড়িতে একা বসবে, ঘাসের ওপর শোবে? নারীর এত ইচ্ছে থাকতে নেই। নারীকে ঘরে বসে থাকতে হয়, নারীর জন্য ঘরের দেওয়ালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা আছে, ওই ভেন্টিলেটর ফুঁড়ে যে আলো-হাওয়া তার গায়ে এসে লাগে, সেটিই কি যথেষ্ট নয় বেঁচে থাকবার জন্য?
এই বইটি কি আপনার
ভালো লেগেছে?
আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে
আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।