প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

কেবলই ছায়া
উপন্যাস ২৯ জুলাই ২০২৩

কেবলই ছায়া

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

১২৯ ভিউ
৫২ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
আমার মা ছিলেন তিরিক্ষি স্বভাবের আর আমি ছিলুম ছিঁচকাঁদুনে। সব শিশুরই নানারকম বায়না থাকে। আমার একটু বেশি ছিল। বেশি ছিল এই কারণে, আমার যখন ন—মাস বয়েস, তখন আমার এঁড়ে লেগেছিল। এঁড়ে গোরু শুনেছি। এঁড়ে ছেলে, ছেলে তো এঁড়েই হবে, মেয়েরা বকনা, এঁড়ে লাগা আবার কী? জানি না বাবা। তবে এঁড়ে লাগার ফলে মাথাটা আমার কাতলা মাছের মতো ঢাউস হয়ে গিয়েছিল। চিপটেন কাটা আত্মীয়স্বজনরা বলত, ছেলে নয় তো যশুরে কই। আত্মীয় আর প্রতিবেশীদের স্বভাবই হল খুঁত বের করা। যে ট্যারা নয় তাকেও বলবে লক্ষ্মী ট্যারা। প্রতিবাদ করলে বলবে, স্কেল ফেলে মেপে দ্যাখো, বাঁ চোখের তারা এক সুতো কান্নিক মেরে কোণের দিকে কেতরে আছে। খুঁত পেলে তো কথাই নেই। সহানুভূতি জানাবার ছলে, ঘনঘন আসা—যাওয়া চলবে। কী হচ্ছে বউমা, রান্না হচ্ছে? আহা মাগো, তোমার সব ভালো মা, কেবল ছেলেটাই কেমন যেন হয়ে গেল। কেমন নাড়ুগোপালের মতো হবে, তা না মাথাটা হাঁড়ির মতো, হাত—পা ন্যাংলা ন্যাংলা। নজর লেগেছে মা। পুঁয়ে পেয়েছে।

আমার ইচ্ছে ছিল দুধের টিনের শিশুটির মতো হয়ে, দোলায় শুয়ে মোটা মোটা হাত—পা গদাম গদাম করে ছুঁড়ব। কেউ মুখের কাছে এসে টুসকি মারলে দেবশিশুর গলায় দুধেল হাসি হাসব। সে আর হল না। এমন কপাল, এঁড়ে লেগে গেল। যেই দ্যাখে সেই কোলে তুলে নেয় আদর করে। হাম হাম চুমু খায়, মেয়েদের কোল থেকে কোলে, কোল থেকে কোলে হতে হতে, অনন্তের কোলে চড়ে বসার সুযোগ এ জীবনে আর হল না। নিয়তি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের শেষ দৃশ্যের মতো, আততায়ীর গলায় হেঁকে বলে দিলে, সে সুযোগ আর পাবি না শয়তান।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!