প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

চৈতালী-ঘূর্ণি
উপন্যাস ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩

চৈতালী-ঘূর্ণি

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২ ভিউ
৭৩ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
অনাবৃষ্টির-বর্ষার খররৌদ্ৰে সমস্ত আকাশ যেন মরুভূমি হইয়া উঠিয়াছে; সারা নীলিমা ব্যাপিয়া একটা ধোঁয়াটে কুয়াশাচ্ছন্ন ভাব; মাঝে মাঝে উত্তপ্ত বাতাস, হু-হু করিয়া একটা দাহ বহিয়া। যায়।

গোষ্ঠ মাঠের কাজ সারিয়া ঘরের দাওয়ায় কোদালখানি রাখিয়া কলিকায় তামাক সাজিয়া টানিতে বসিল; টানিয়াই যায়, আর কি যেন ভাবে।

পত্নী দামিনী হাতাখানা পুড়াইয়া ডালের মধ্যে সশব্দে ড়ুবাইতে ড়ুবাইতে কহিল, কি ভাবছ। বল তো?

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া গোষ্ঠ কহে, হুঁ, ভাবছি–ভাবছি কি জান, তুমিও তো অনেক দিন এসেছ, বল দেখি, গা-খানা কি ছিল আর কি হল?

দামিনী কহে, তা সত্যি বাপু, সেই গাঁ–সবারই ঘরে গোলা-ভরা ধান, যাত্রা, মচ্ছ কত; বছর বছর নটবরের যাত্রা হয়েছে; এখন আজ খেতে কারু কাল নাই।

গোষ্ঠ বলে, জান, আজ মাঠ থেকে ফিরতে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে গা শিউরে উঠল। সমস্ত গাটা যেন আবছা ধোঁয়াতে ছেয়ে গিয়েছে, নদীর বুকে বাতাসে তপ্ত বালি হু-হু করছে, নদীর ওপরেই শ্মশানের ছাই উড়ছে, শেয়াল কুকুর শকুনি চেঁচাচ্ছে; গায়ের মাঝ থেকে একটা সাড়া নাই কারু, যেন সব মরে গিয়েছে। আমার বুকখানা কেমন করে উঠল বাপু।

দামিনী ভয়ে শিহরিয়া ওঠে; তরুণীটির সদাহাস্যময়ী মুখখানি মলিন হইয়া ওঠে, উহারও তরল মনের বুকে ভাবনার বোঝা চাপিয়া বসে।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!