প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

কসবি
উপন্যাস ২৫ নভেম্বর ২০২৩

কসবি

হরিশংকর জলদাস

১২৯ ভিউ
৪৯ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
‘অই সেলিম্যা, পোলাখোর একটারে ধইরা লইয়া আইছস ক্যান?’ ঘরের ভেতর থেকে ক্রুদ্ধ কণ্ঠ ভেসে আসে দেবযানীর।

‘কী হইছে?’ পাশের ছোট্ট ঘরটিতে বসে থাকা সেলিম জিজ্ঞেস করে।

‘বড় আনাড়ি তোর আনা কাস্টমার।’ আধো আলোর ঘরটি থেকে আলুথালু বেশে বেরিয়ে আসে দেবযানী। চোখেমুখে রাগের ঝাঁজ তখনো লেপ্টে আছে।

সেলিম দেবযানীর কথার মাহাত্ম্য কিছুই বুঝতে পারে না। বোকা বোকা চেহারা নিয়ে দেবযানীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।

কখনো কখনো কাস্টমারের সঙ্গে কারবার শেষ করে দেবযানী যখন খেলাঘর থেকে বেরিয়ে আসে, তখন তার সমস্তমুখে এক ধরনের অনুরাগের প্রলেপ মাখানো থাকে। সেটা অল্প সময়ের জন্যে। দীর্ঘ বিশ বছরের অভিজ্ঞতায় সেলিম এটা বুঝে গেছে, অনুরাগের আভাটি অল্প সময়ের জন্যে হলেও খাঁটি। এই ধরনের মেয়েরা মনমতো কাস্টমার পেলে কিছু সময়ের জন্যে বাস্তবতাকে ভুলে যায়। প্রকৃত প্রেমিকার শিহরণ অনুভব করে শরীরে, কখনো কখনো মনেও। শরীরের শিহরণ বেশিক্ষণ টিকে থাকে না, অন্য কাস্টমার এসে তা দুমড়ে মুচড়ে দেয়। শরীর বেচাকেনার এই বাজারেও মনের শিহরণ অনেকক্ষণ, মাঝে মাঝে কয়েকদিনও স্থায়ী হয়। তখন দেবযানীদের মতো মেয়েদের মন থাকে ফুরফুরে, আচরণ হয় গেরস্থি নারীর মতন। হয়তো কোনো একরাত কোনো কাষ্টমার শরীরের সঙ্গে সঙ্গে দেবযানীদের মনও জাগাতে পারল। সেই কাস্টমার তার কাজ শেষ করে চলে গেল, ঘরের বউয়ের সঙ্গে বা প্রেমিকার সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন শুরু করল, সেই কবে ক্ষণিক প্রয়োজনে বা উত্তেজনায় দেবযানীদের অতিথি হয়েছিল ও হয়তোবা ভুলে গেল। কিন্তু দেবযানীরা মন-জাগানিয়া সেই অতিথিকে ভুলতে পারে না। ক্ষণে ক্ষণে শুধু মনে পড়ে। সেই সুখ-স্মৃতি নিয়ে অনেক জঘন্য কাস্টমার পার করে তারা। আশায় থাকে, সামনের কোনো একদিন মন-জাগানিয়া অন্য কোনো কাস্টমার আসবে তার ঘরে।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!