প্রফুল্ল রায় (১১ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ — ১৯ জুন ২০২৫) পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান সমসাময়িক লেখক, যিনি ১৯৩৪ সালে প্রাক্তন পূর্ব বাংলার ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে তিনি ভারতে আসেন। একটি নতুন ভূমিতে পা রাখার জন্য তাকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। সংগ্রামরত মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি সারা দেশ ভ্রমণ করেছিলেন। আর এই উদ্দেশ্যই তিনি বেশ কিছুকাল নাগাল্যান্ডের আদিবাসীদের মধ্যে বাস করেছিলেন, যারা ছিলো বিহারের অস্পৃশ্য এবং আন্দামানের মূল ভূখণ্ডের শিকড়হীন মানুষ। যাদের অধিকাংশই পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় নিশ্ছিদ্রভাবে আবির্ভূত হয়। ২০২৫ সালের ১৯ জুন তিনি ইহলোক ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেন। প্রফুল্ল রায়ের রচনাগুলি শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় অবস্থাতেই শক্তিশালী এবং সত্যিকারের বিদ্যমান বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে যা পাঠককে বহুমাত্রিক সামাজিক গোলকধাঁধা আবিষ্কার করতে সাহায্য করে। তিনি উপন্যাস এবং ছোটগল্প সহ প্রায় দেড় শতাধিক বই লিখেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ছিল 'পূর্ব পার্বতী', যা নাগাল্যান্ডে রচিত হয়েছিল এবং ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তার উদ্বাস্তু জীবনকেন্দ্রিক যে সমস্ত উপন্যাস রচিত আছে সেগুলি হলো ‘কেয়া পাতার নৌকো’ (২০০৩), ‘শতধারায় বয়ে যায়’ (২০০৮), ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ (২০১৪), ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ (বাং ১৩৬৬) ইত্যাদি। ‘কেয়াপাতার নৌকা’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ আকারে এবং নামে আলাদা হলেও আসলে তিনটি উপন্যাস মিলেই একটি ত্রয়ী উপন্যাস। ১৯৯২ সালে সংবাদ প্রতিদিন-এর সাহিত্য বিভাগের প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রফুল্ল রায়।
সংগৃহিত বই: ৫ টি