অমলেন্দু দে (১৯২৯ - ২০১৪) বাংলা ভাষার একজন ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক ও লেখক। সম্পাদনা করেছেন ‘বেঙ্গল পাস্ট এন্ড প্রেজেন্ট’ নামের একটি বিখ্যাত জার্নাল। কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। সংযুক্ত ছিলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সঙ্গেও। ১৯৯২ সালে ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি কংগ্রেসে আধুনিক ভারত বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন বামপন্থী ও প্রগতিশীল সংস্থার সাথে নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন আপোষহীনভাবে। অমলেন্দু দে ১৯২৯ সালের ১২ই মার্চ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) ফরিদপুরের মাদারিপুর শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা গোপাল চন্দ্র দে ছিলেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। তার মায়ের নাম ফুলকুমারী দেবী। তিনি ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি মাদারিপুর হাই স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে ম্যাট্রিক, কলকাতার সিটি কলেজ থেকে ১৯৪৮ সালে আই.এ. ও ১৯৫১ সালে ডিস্টিংকশনসহ বি.এ. এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৩ সালে ইতিহাস বিষয়ে এম.এ. পাস করেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮১-তে খাকসার আন্দোলনের ইতিহাস (2 খণ্ড)রচনার জন্য ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন করেন। ড. অমলেন্দু দে ছিলেন মার্কসবাদী তথা মানবতাবাদী ইতিহাসবিদ। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত উলুবেড়িয়া কলেজ ও মুরলিধর গার্লস কলেজে অধ্যপনা করেন। ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিন দশক অধ্যাপনা করেছেনযাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছিলেন “গুরু নানক অধ্যাপক”। ২০০৮ সালে লাভ করেন অন্নদাশঙ্কর পুরস্কার। কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। সারাজীবন তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য কাজ করে গেছেন। দুই বাংলার অজস্র ছাত্রছাত্রীর গবেষণার তত্ত্বাবধান করেছেন। বিবাহ করেছিলেন শেরে বাংলা ফজলুল হক-এর নাতনি, সহপাঠিনী নাসিমা বানুকে। ওনাদের পুত্রকন্যাও ইতিহাসের অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। তিনি ২০১৪ সালের ১৬ মে কলকাতায় পরলোক গমন করেন।[৪]
সংগৃহিত বই: ৩ টি