প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

অপুর প্যাচালি
জীবনী, স্মৃতিচারণ ০৩ আগস্ট ২০২৩

অপুর প্যাচালি

সত্যজিৎ রায়

৬৯ ভিউ
২৯ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
১৯৫২ সালের শরৎকালের এক বিকেলবেলায়, দীর্ঘ সাদা কাশফুলে ছাওয়া এক মাঠের মধ্যে আমি শুরু করেছিলাম ‘পথের পাঁচালি’র শুটিং। চলচ্চিত্র নির্মাণকেই যে আমার পেশা হিসাবে গ্রহণ করব, তার এক বছর আগে পর্যন্ত এমন কথা আমি ভাবিনি। যে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে দশ বছর কাজ করেছি, সেখানে তখন আমি আর্ট ডিরেক্টর। পাকা চাকরি। তখনই অবশ্য আমি বুঝতে শুরু করেছিলাম যে, বিজ্ঞাপন-জগতের শিল্পীদের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই, যাঁরা টাকা ঢালছেন, সেই বিজ্ঞাপনদাতাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী তাঁদের কাজ করতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও চাকরিটা আমি করে যাচ্ছিলাম। তার কারণ, এই ধারণা নিয়ে আমি বড় হয়ে উঠেছিলাম যে, একজন যুবকের জীবনে আর্থিক নিরাপত্তার দামই সবচেয়ে বেশি, তার চেয়ে বেশি দামি আর কিছুই হতে পারে না।

আমার বাবা কি ঠাকুর্দা কখনও চাকরি করেননি। ঠাকুর্দা উপেন্দ্রকিশোরের প্রতিভা ছিল রেনেসাঁসের সময়কার মানুষদের প্রতিভার মতোই বহুমুখী। তিনি লিখতেন, ছবি আঁকতেন, বেহালা বাজাতেন, গান রচনা করতেন। হাফটোন ব্লক তৈরির ব্যাপারে তিনি ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তিনি যে ছাপাখানা বসিয়েছিলেন, অচিরে তা দেশের সেরা ছাপাখানা বলে গণ্য হয়। ১৯১৫ সালে, ৫২ বছর বয়সে, আমার জন্মের ছ’ বছর আগে, তিনি মারা যান। তাঁর বড় ছেলে সুকুমার আমার বাবা। ছাপার কাজ শিখবার জন্য ঠাকুর্দা তাঁর এই বড় ছেলেকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে ম্যাঞ্চেস্টার স্কুল অব প্রিন্টিং টেকনোলজির শেষ পরীক্ষায় তিনি প্রথম হন। ঠাকুর্দার জীবদ্দশাতেই তিনি দেশে ফেরেন, তারপর বিয়ে করে যোগ দেন তাঁর বাবার ব্যবসায়ে।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!