প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

ধূপছায়া
ছোট গল্প ২৮ আগস্ট ২০২৩

ধূপছায়া

সৈয়দ মুজতবা আলী

৩৩২ ভিউ
৬৫ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
ছেলেবেলায় মাস্টারমশাই গোরু সম্বন্ধে রচনা লিখতে হুকুম দিতেন। এখনও মনে পড়ছে, তালুর ব্রহ্মরন্ধ্র দিয়ে ধোয়া বেরিয়ে যেত কিন্তু কিছুতেই ভেবে পেতুম না, গোরু সম্বন্ধে লিখব কী? শেষটায় মনে হত, আমি একটা আস্ত গোরু, না হলে গোরু সম্বন্ধে কিছুই লিখতে পারছিনে কেন– যে গোরু ইস্কুল আসতে-যেতে নিত্যি নিত্যি দেখতে পাই। সেকথা একদিন এক বন্ধুকে বলতে সে বাঁকা হাসি হেসে বলেছিল, আত্মজীবনী লেখা তো কঠিন নয়।

শেষটায় অনেক ভেবে-চিন্তে লিখতুম, গোরুর চারখানা পা, দুটো শিং আর একটা ন্যাজ আছে। গুরুমশাই তারই উপর চোখ বুলিয়ে যেতেন, পেটের অসুখ থাকলে দিতেন ছ নম্বর, মর্জি ভালো থাকলে দিতেন আট। আমিও খুশি হয়ে ভাবতুম, এই গোরুর ন্যাজ ধরে পরীক্ষা বৈতরণী ঠিক পেরিয়ে যাব।

কিন্তু মাঝে মাঝে ভাবতুম, দুটো শিং বলার অর্থ হয়, কারণ গণ্ডারের নাকি একটা শিং। চার পা বলাও অবান্তর নয়, কারণ চার না হয়ে গোরুর দু পা-ও হতে পারত কিন্তু একটা ন্যাজ বলার তো কোনও মানে হয় না– আজ পর্যন্ত তো কোনও জানোয়ারের দুটো ন্যাজের কথা শুনিনি। একদিন মাস্টারমশাইকে প্রশ্নটা শুধালে তিনি বললেন, ইংরেজি ভাষার আইন অনুসারে বলতে হয়, দি কাউ হ্যাজ এ টেল। ‘এ’টা না দিলে ব্যাকরণের গলতি হয়। তখন বুঝলুম ‘এ টেল’টা গোরুর ন্যাজ নয়, ইংরেজি ব্যাকরণের ন্যাজ। কিন্তু তবু প্রশ্ন রয়ে গেল, ‘বাংলাতে যখন ‘একটা’ ব্যবহার না করে দিব্য বলতে পারি ‘গোরুর ন্যাজ আছে’ তখন ইংরেজের মতো সুসভ্য জাত সৃষ্টির প্রথম পূর্বাহে বৃক্ষাবতরণকালে তার মর্কট রূপটি ত্যাগ করার সময় এই বৈয়াকরণিক কিংবা আলঙ্কারিক পুচ্ছটিও বর্জন করল না কেন?’

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!