প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

ছায়াচারিণী
গল্প ১৯ আগস্ট ২০২৩

ছায়াচারিণী

সমরেশ বসু

১৩৫ ভিউ
৫৬ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
আশা চমকে উঠে বাইরের দিকে তাকাল।

কিন্তু রাস্তা খানিকটা দূরে। বাড়ির উঠোন থেকে দেখা যায় না। তবু শব্দটা বাইরের রাস্তার দিক থেকেই এসেছে। রাংচিতের বেড়া তেমনি অগ্রহায়ণের নতুন বাতাসে দুলছে। প্রজাপতিরা উড়ছে। তাদের বর্ণবাহার পাখায় চমকাচ্ছে রৌদ্রচ্ছটা। এই মন্দিরবহুল তীর্থক্ষেত্র, কোম্পানির আমলের সরু ঘিঞ্জি রাস্তা, পুরনো বড় বড় বাড়ি–সেকেলে বেনে শহরটার সাড়া শব্দ তেমনি ভেসে আসছে এই প্রান্তে। কাপড় কলের বয়লারের শোঁ শোঁ শব্দ তেমনি নিরন্তর যন্ত্রপ্রাণের সাড়া জানাচ্ছে। শহরের এই সীমানায়, যেখানে একদা বাগানবাড়িগুলির তলার ভিত থেকে আলসে পর্যন্ত বার্ধক্যে নাড়া খেয়ে গেছে। অনেককাল, গতায়ু যৌবনের ভাঙা কঙ্কালে শুধু ঘুঘু দম্পতিরাই যেখানে চরে ও বংশবৃদ্ধি করে, যেখানে এখনও কিছু বনবাদাড় মাঠ গেছে উত্তরে ঢালুতে, নদীর সীমানায় একটি প্রায় নিখুঁত গ্রামীণ আবহাওয়ায়, নতুন দু-চারটে বাড়ি ঘিঞ্জি শহরটাকে যেখানে হাঁফ ছাড়বার ডাক দিচ্ছে, সেখানে পুরনো সেই নিম্নবিত্তের ভদ্রলোকদের পাড়াটার প্রত্যহের ঘরে বাইরের হাসি কান্না আড্ডার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে একই রকম। শালিকের স্বভাব-কলহ, চড়ুইয়ের স্বভাব-ঝাঁপাইঝোড়ার কোথাও কোনও ব্যতিক্রম নেই। পাড়ার ধারে, চিরপ্রবহমান ছোট নদীটি নিশ্চয় থমকে নেই। জলের নীচে শ্যাওলার জটা হাত স্রোতের বুকে হাত বাড়িয়ে আছে নিশ্চয় তেমনি পাতাল থেকে।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!