প্রিয় পাঠক!

জ্ঞান বিতরণের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সার্ভার খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন। আপনার আমাদের এই উদ্যোগটি চালিয়ে নিতে এবং আরও নতুন বই সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। ধন্যবাদ।

ফুটপাথের দোকান
জীবনী, স্মৃতিচারণ ১১ আগস্ট ২০২৩

ফুটপাথের দোকান

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

১৪৯ ভিউ
৫২ ডাউনলোড
বইটি ডাউনলোড করুন
বুঝলেন, বিয়ের সময় আমার একটা আনক্যানি ফিলিং হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আমি একজন মৃতদেহকে বিয়ে করছি।

বলেন কী মশাই। এ যে সর্বনেশে কাণ্ড! তা এরকম মনে হল কেন আপনার?

সেটাই বলতে চাইছি। পাশে বেনারসিতে মোড়া যে-মেয়েটি বসে ছিল, তার শরীরে যেন কোনও সারই নেই। মাঝে মাঝে যেন ঢলে পড়ে যাচ্ছিল, সম্প্রদানের সময় হাতটা ছুঁয়ে চমকে উঠেছিলাম, কোনও জ্যান্ত মানুষের শরীর কি এত ঠান্ডা হয়? তার আগে অবশ্য সাতপাক আর শুভদৃষ্টি হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়েটি আমার দিকে তাকায়নি। পাশেই দাঁড়ানো এক মহিলার কাঁধে মাথা খানিকটা লটকে ছিল। মুখটা তখনও পানপাতায় ঢাকা। ভেবেছিলাম, সারা দিন উপোস আর ধকলে রোগা মেয়েটা লাতন হয়ে পড়েছে বুঝি! কুশণ্ডিকার সময় আমি অগাধ জলে। একেই বিয়ের প্রথাসিদ্ধ নার্ভাসনেস, তার ওপর একটা হিমশীতল হাত। আমারই তখন ধাত ছাড়ার উপক্রম। পারলে বিয়ের আসর ছেড়ে দৌড়ে পালাই। কিন্তু সে তো আর সম্ভব নয়, তাই কাঠপুতুলের মতো বসে বিয়ের মন্ত্র আউড়ে যাচ্ছিলাম। সে এক প্রাণান্তকর অভিজ্ঞতা মশাই! শেষ অবধি কি এরা ষড়যন্ত্র করে একটা ডেডবডিকেই বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়েছে? আমি কি কোনও ক্রিমিনাল ট্র্যাপের শিকার? এইসব আগড়মবাগড়ম ভাবতে-ভাবতে আমার মাথা ভোঁ-ভোঁ করছিল।

এই বইটি কি আপনার ভালো লেগেছে?

আমাদের এই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

📜 দাতা সদস্যবৃন্দ

মন্তব্য

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। আপনিই প্রথম মন্তব্য করুন!